নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে ভাবছে না বিএনপি। দলটির একমাত্র লক্ষ্য, আওয়ামী লীগকে নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করানোর জন্য আন্দোলন গড়ে তোলা।
সেই আন্দোলনে সব গণতান্ত্রিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা।
রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট আয়োজিত এক সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আগেই বলেছি, নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। মাথাব্যথা একটা নিয়ে যে, নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার কারা থাকবে।
যদি আওয়ামী লীগ সরকারে থাকে তাহলে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, কোনো নির্বাচন হবে না। কারণ, তারা তাদের মতো করে একই কায়দায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। আর আমরা বসে বসে দেখবো। আমরা আর সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো না।
কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালামের সাম্প্রদায়িক উক্তি ও নিপুণ রায় চৌধুরীর ওপর হামলার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ফখরুল আরো বলেন, একটা মাত্র দাবি, নির্বাচন কমিশন নয়- সার্চ কমিটি নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার অথবা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।
বিকেলে রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। তা না হলে দেশের এই গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে বের হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে কিন্তু কাজে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়ে একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র তৈরি করেছে, এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের কোনো বিকল্প নেই। সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, গত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় এটা অত্যন্ত পরিষ্কার হয়ে গেছে, যদি একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না হয়, তাহলে কখনও একটি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হয় না। কখনও জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার গঠিত হয় না। জনগণের যে সমস্যা তার সমাধান হবে না।
গণতন্ত্র মুখের কথা নয় মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র চর্চার বিষয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নির্মাণ করতে হলে গণতান্ত্রিক সংগঠন গড়ে তুলতে হয়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্মাণ করতে হয়। আজকে পরিকল্পতিভাবে বাংলাদেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, পরিকল্পিতভাবে সব প্রতিষ্ঠানে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে, সেগুলোকে পুনরায় নির্মাণ করার সুযোগ হবে।
কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোন আগ্রহ নাই বিএনপির। কারণ হিসেবে দলটির মহাসচিব বলছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ থাকতে পারবে না। আর দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ভোট যে সম্ভব নয় তা ২০১৪ এবং ১৮ সালেই প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের কাছে আমাদের আহ্বান থাকবে, আসুন আর কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নয়, দেশকে রক্ষা করার জন্য, গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।
আর আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, যতদিন নিরপেক্ষ সরকার না হবে ততদিন আন্দোলন চলবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন নিয়ে আগ্রহী নই। আমরা আগ্রহী নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার নিয়ে। নিরপেক্ষ সরকার না হলে দেশে কোনোদিন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।
মির্জা আব্বাস বলেন, আজ পত্রিকায় দেখলাম কাজী হাবিবুল আউয়ালকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) করা হয়েছে। আগে কখনো তার নাম শুনিনি।
তিনি বলেন, কিন্তু খুবই খারাপ লাগে এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য, গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করার জন্য একদল লোককে নিয়োগ করেছে। এই দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করবার জন্য যারা এই সরকারকে সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আর সঞ্চালনা করেন বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম।