ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে বরিশাল বিভাগের ৫ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ বলে জানিয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রবিউশস কোম্পানি লিমিটেড। সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাতে সময় সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ টি এম তারিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার মধ্যে বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও ভোলার বেশির ভাগ জায়গায় এরইমধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু বরিশাল শহরে বিদ্যুৎ রয়েছে।
এ টি এম তারিকুল ইসলাম আরও বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ব্রডব্যান্ড-ইন্টারনেটসহ সবকিছুই বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা যথাসম্ভব বরিশাল শহরে এখনও বিদ্যুৎ সরবরাহ দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কতক্ষণ এ সরবরাহ চালিয়ে যেতে পাবর, তা বলা সম্ভব হচ্ছে না।
ইন্টারনেট সংযোগকারী প্রতিষ্ঠান ইউরোটেল বিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম জাকির হোসেন বলেন, বরিশাল বিভাগের ৫টি জেলায় আমরা বিদ্যুতের বিকল্প যেমন আইপিএস ও জেনারেটর দিয়ে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তবে বরিশাল জেলা শহরে এখনও বিদ্যুৎ থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়নি।
তিনি আরও জানান, আমরা চেষ্টা করবো ইন্টারনেট সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে। কিন্তু গ্রাহকেরও বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে কোন গ্রাহকই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন না।
এদিকে টানা বৃষ্টি আর ঝোড়ো বাতাসে পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট। ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
বরিশাল আবহাওয়া অধিদফতরের পর্যবেক্ষক মাজহারুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে ৫ থেকে ৮ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার মধ্যরাতে বরিশাল অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে।
তিনি আরও জানান, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ২৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া নদীবন্দরে ৩ ও সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর সংকেত রয়েছে। বর্তমানে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার। বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের গতিবেগও বাড়তে থাকবে।
এদিকে সকাল থেকে সব রুটের লঞ্চ ও স্পিডবোর্ড চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ।