বরিশাল ॥ বরিশাল সিটি নির্বাচনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতা, রাজনীতি সচেতন ব্যক্তি ও সাধারণ ভোটারদের অনেকের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাদের মতে, প্রচারে গাজীপুরের জায়েদা খাতুনের মতোই পরিস্থিতি স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসানের। নৌকা ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর চেয়ে প্রচারে অনেকটাই পিছিয়ে। কিন্তু অধিকাংশ ওয়ার্ডে বিএনপি-জামায়াতের কাউন্সিলর প্রার্থী থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান বিএনপির সমর্থক ভোটারদের সহানুভূতি পেতে পারেন। এই বিষয়টি ভাবনায় ফেলেছে আওয়ামী লীগকে।
মহানগর বিএনপির সাবেক ও বর্তমান অন্তত ছয়জন নেতা বলেন, মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা কামরুলকে সমর্থন না করলেও দলের একটি বড় অংশ তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল। বরিশালে তাঁদের শক্তিশালী অবস্থান আছে। পাশাপাশি জামায়াতের ভোটারদের সহানুভূতিও কামরুলের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
বরিশালে প্রচার-প্রচারণায় ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকেই সাড়া ফেলেছে। জাপার প্রার্থীও ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। সেই অনুযায়ী কামরুলকে প্রচার-প্রচারণায় বেশ কৌশলী বলে মনে করছেন ভোটাররা। ভোটও চাইছেন অনেকটা নীরবে-নিভৃতে।
বিএনপির নেতারা জানান, বরিশালে বিএনপির ভোটার-সমর্থকেরা কেন্দ্রে গেলে সিংহভাগ ভোট কামরুলের পক্ষে পড়বে। নেতাদের যুক্তি, বরিশালে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপিপন্থী ২০ জন কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন। এ ছাড়া জামায়াতেরও চারজন প্রার্থী আছেন।
মহানগর বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক বলেন, ভোটের সমীকরণে কামরুল ফেলে দেওয়ার মতো প্রার্থী নন। বিএনপির সমর্থকেরা হাতপাখা বা লাঙ্গলে ভোট দেবেন এটা অবিশ্বাস্য। কেন্দ্রে গেলে তাঁদের প্রথম ও একমাত্র পছন্দ হবেন কামরুল।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, ‘কামরুল আশ্চর্যজনক কিছু করে ফেলতে পারেন, এখন এমনটাই মনে হচ্ছে। বিএনপিপন্থী কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোটারদের কেন্দ্রে আনার ওপর এটি নির্ভর করছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী খায়ের আবদুল্লাহ বরিশালে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কে আসবেন, সেটাই বড় সমীকরণ।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বরিশাল নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর আমিন উদ্দীন বলেন, শুরুতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে নৌকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হচ্ছিল। এখন সার্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন। সূত্র প্রথম আলো