বরিশালে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৫ রোগী। এতে হাসপাতালে মোট ৫২ রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা রয়েছেন আরও ১৪০ রোগী।
সরেজমিনে দেখা যায়, বরিশাল শেরে-ই-বাংলা হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। এখনো ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা হয়নি। মেডিসিন ওয়ার্ডে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত আবুল বাশার জানান, ঢাকা থেকে বাড়িতে ঈদ করতে এসে জ্বর অনুভব করি। এরপর হাসপাতালে আসলে ডেঙ্গু জ্বর ধরা পড়ে। তিনদিন মেঝেতে চিকিৎসা নেয়ার পর বেড পেয়েছি। চিকিৎসকরা নিয়মিত আসলেও হাসপাতালের পরিবেশ ভালো নেই।
আসমা নামের এক রোগীর স্বজন জানান, সাধারণ রোগীদের সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের একসঙ্গে রাখা হচ্ছে। এতে ডেঙ্গু জ্বর যেমন ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। দ্রুত ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা উচিত।
রফিক নামের আরেক রোগীর স্বজন জানান, পুরো হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী ছড়িয়ে আছে। এতে আতঙ্ক বাড়ছে অন্য রোগীদের মাঝে। এ ছাড়া বেশির ভাগ ডেঙ্গু রোগী অসচেতন। তারা মশারি টানায় না। পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এদিকে নজর দেয়া উচিত।
এদিকে শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান জানান, বরিশালে ভর্তি হওয়া বেশিরভাগ রোগীই ঢাকা থেকে আক্রান্ত। রোগ থেকে বাঁচতে সচেতন হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে দ্রুতই ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড খোলার দাবি জানিয়েছেন তিনি।