বরিশাল ॥ ঈদ উল আজহা পরবর্তি কর্মস্থলমুখি শ্রমজীবী মানুষের শ্রোতে ঠাশা বরিশাল নদী বন্দর। গত প্রায় দশ দিন ধরেই বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের সাথে রাজধানীমুখি বিপুল সংখ্যক নৌযান বোঝাই করে যাত্রীরা ঢাকা এবং চাঁদপুর হয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে যাতায়াত করছেন। সড়ক পথে যাত্রীর শ্রোত আরো লম্বা। মহাসড়কের সক্ষমতার তুলনায় যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা বেশী হওয়ায় বরিশাল থেকে পদ্মাসেতুর সংযোগকারী বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ের ভাংগা পয়েন্ট পর্যন্ত ৯৫ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কেই গত দিন দশেক ধরে যানযট লক্ষ লক্ষ যাত্রীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলছে।
পদ্মা সেতু চালু হবার পরে নদ-নদীবহুল দক্ষিণাঞ্চলের নৌযোগাযোগে যে ধ্বশ নেমেছে, বিগত ঈদ উল ফিতরের মত ঈদ উল আজহার আগে পড়ের কয়েক দিনে সেখানেই কিছুচটা প্রাণ ফিরে এসেছে। নৌযান মালিক ও কর্মচারীরা আগামী রোববার পর্যন্ত নৌপথে এ ভিড় অব্যাহত থাকার আশা করছেন।
শুধু বরিশাল নদী বন্দর থেকেই গত দিন দশের যাবত ৮-৯টি তিনতলা বিলাসবহুল বেসরকারী নৌযান ঢাকায় যাচ্ছে। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি নৌযান চাঁদপুর হয়েও ঢাকায় যাচ্ছে। এসব নৌযানে ভোর রাতের দিকে চাঁদপুর পৌছে সেখান থেকে সকাল ৫টার ট্রেনে বিপুল সংখ্যক যাত্রী চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছেন। কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের অনেক যাত্রীও চাঁদপুর হয়ে সড়ক পথে গন্তব্যে যাচ্ছেন।
তবে বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চলের ৩টি নদী বন্দর ছাড়াও শতাধিক লঞ্চ ঘাট থেকে ৯০ ভাগেরও বেশী যাত্রী যাচ্ছেন ঢাকাতে। গত দিন দশেক ধরেই বরিশাল বন্দরের নৌ-টার্মিনালে দুপুরের পর থেকে যাত্রী ভিড়ে পা রাখা দায়। ঈদ পরবর্তি গত রোবাবার থেকে শুধু বরিশাল বন্দর থেকেই দৈনিক গড়ে ৯টি বিশালাকৃতির নৌযান বোঝাই করে বিপুল সংখ্যক যাত্রী ঢাকা ছাড়াও চাঁদপুর হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছেন।
পদ্মা সেতু চালু হবার পরে দক্ষিণাঞ্চলের ওপর বাহুলাংশে নির্ভরশীল বিঅইডব্লিউটিএ’র রাজস্ব আয় প্রায় ৩০ভাগ হ্রাস পেয়েছে। এখন শুধু বছরে দুটি ঈদ পর্বের সময়ই নৌপথে আগের প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে যাত্রী চলাচল করছে বলে সংশ্লিষ্ট দাযিত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
বরিশাল বন্দর থেকে ঢাকা মুখি প্রায় ২৭টি বেসরকারী নৌযানের রুট পারমিট থাকলেও ঈদ ছাড়া স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক গড়ে ৪টি করে নৌযান চলাচল করে থাকে। দক্ষিনাঞ্চল থেকে রুট পারমিটধারী প্রায় দেড়শ নৌযানের ৫০টিও এখন আর চলাচল করছে না।