পটুয়াখালীর শহরের প্রবেশমুখ থেকে একটু দক্ষিণে মহাসড়কের পাশে পটুয়াখালীর বাস টার্মিনাল। জেলার অভ্যন্তরীণ ৭টি রুটের ১৫০টি যাত্রী পরিবহনের বাসসহ বরিশাল-বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন আন্তজেলায় দেড় শতাধিক বাসে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করছে। অথচ বৃষ্টি হলেই টার্মিনালের ভেতরে ও আশপাশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায় এলাকা। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে থেমে থেমে বৃষ্টি হয় পটুয়াখালীতে। সকালে বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, অল্প বৃষ্টিতেই বাস টার্মিনালের ভেতরে পানি জমেছে। মহাসড়কের পাশে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বাসগুলো জমে থাকা কাদাপানির মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। যাত্রীরা কষ্ট করে এর মধ্যেই বাসে ওঠানামা করছেন। এতে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
২০০৩ সালে দুই একর জমির ওপর ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই বাস টার্মিনাল নির্মাণ করে। পরে তারা এটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করে। সেই থেকে পৌরসভা এটি রক্ষণাবেক্ষণ করছে।
পটুয়াখালী বাস টার্মিনাল থেকে পটুয়াখালীর অভ্যন্তরীণ রুটসহ বরিশাল, বরগুনা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীরা যাতায়াত করেন। ঝড়বৃষ্টি হলেই তাঁদের টার্মিনাল এলাকায় পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা হোসেন নামের এক পর্যটক জানান, তিনি লঞ্চে করে সকালে পটুয়াখালী পৌঁছে কুয়াকাটা যাওয়ার উদ্দেশে পটুয়াখালী বাস টার্মিনাল আসেন। কিন্তু এখানে এসেই জলাবদ্ধতার কারণে কাদাপানির মধ্যে বাসে উঠতে হয়েছে। শহরের ভেতর দিয়ে আসার সময় রাস্তাঘাট সুন্দর দেখলেও বাস টার্মিনালে এসে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।
বরিশালের যাত্রী আবুল বলেন, বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে কাউন্টারে যাওয়া যায় না। বাসে উঠতে হয় পা ভিজিয়ে ও কাদামাটি মেখে। এভাবে যাতায়াত করা কষ্টকর।
গলাচিপার বাসযাত্রী নাঈম হোসেন বলেন, টার্মিনাল ভবনের সব শৌচাগার ব্যবহারের অনুপযোগী। যাত্রীদের বসার স্থানও ভালো নয়।
পটুয়াখালী-বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে চলাচলকারী বাস রুদ্র-তূর্য পরিবহনের চালক মো. শহীদ জানান, শুধু যাত্রীরাই নন, পানি জমে থাকলে বাসচালক ও শ্রমিকরাও দুর্ভোগে পড়েন। যাত্রীদের ওঠানামার জন্য ভালো জায়গা পাওয়া যায় না। মহাসড়কের পাশে রাখলে যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় খানাখন্দে আটকে পড়ে বাস, তখন লোকজন নিয়ে টেনে গাড়ি তুলতে হয়।
পটুয়াখালী জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গোলাম মাওলা দুলু বলেন, বৃষ্টি হলেই পটুয়াখালী বাস টার্মিনালের অবস্থা করুণ হয়ে ওঠে। যাত্রীসেবা তো দূরের কথা, বৃষ্টির পানি জমে থাকায় বাসগুলো টার্মিনালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া যায় না। যাত্রীদের মহাসড়কের পাশেই বাসে ওঠানামা করতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেও হাঁটুপানি জমে টার্মিনালের ভেতর। তখন বাসগুলো মহাসড়কের পাশে রাখতে বাধ্য হন চালকেরা। গত ১১ জুলাই জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় পটুয়াখালীর বাস টার্মিনালের দুরবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন মৃধা বলেন, ‘প্রতিবছরই লাখ লাখ টাকা টোল আদায় হয়, কিন্তু টার্মিনালের কোনো উন্নয়ন হয় না। একটু ভারী বৃষ্টি হলেই শৌচাগারগুলো পানিতে ডুবে যায়। এতে শৌচাগারের ময়লা উপচে টার্মিনালের ভেতরে চলে আসে। শুনেছি, এখানে নতুন করে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ হবে। তবে কাজটি দ্রুত করতে হবে। তা না হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে না।’
পটুয়াখালী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসীম উদ্দীন বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই পানি জমে যাওয়ায় বাস টার্মিনাল ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা, পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা পোর্টসহ ব্যাপক উন্নয়নের সঙ্গে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে সড়কপথে ব্যাপক হারে যানবাহন চলাচল বেড়েছে। তাই আমরা নতুন করে সব সুযোগ-সুবিধা যোগ করে পটুয়াখালীতে একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এ লক্ষ্যে আরও ছয় একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। মোট ৮ একর জায়গায় এই বাস টার্মিনালে পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা, ওয়ার্কশপ, শপিং মল, হোটেল-রেস্তোরাঁ, এটিএম বুথ, আধুনিক বিশ্রামাগার, শৌচাগারসহ শ্রমিকদের জন্য বিশ্রামাগার থাকবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে এই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে পরামর্শক নিয়োগ হয়েছে।’