বরিশাল ॥ বরিশালে তিন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও দুইজন অলংকার তৈরির কারিগরের ৩৫ লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণ নিয়ে উধাও হয়েছেন আরেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাবু মিত্র। নগরীর গীর্জা মহল্লার এই ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় বাবু ও তার স্ত্রী জয়শ্রী ঘরামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগী মো. রানা।
বিষয়টি সোমবার (২৬ জুন) বিকেলে নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন।
অভিযুক্তরা নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোডের বাসিন্দা। অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা নগরীর গীর্জামহল্লায় স্বর্ণের ব্যবসা করেন। পাশাপাশি ব্যবসা করার কারনে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুযোগে বিভিন্ন সময়ে ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে বাকিতে স্বর্ণালংকার নিয়ে বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করতেন অভিযুক্ত বাবু। তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে তার স্ত্রী জয়শ্রী ঘরামীকেও আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বাবু পলাতক থাকলেও তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন কর্মচারীরা।
ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী রানা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, পাশাপাশি ব্যবসা করার কারনে বাবু মিত্রের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ কারনে বিভিন্ন সময়ে তিনি আমাদের কাছ থেকে বাকিতে স্বর্ণ নিয়ে বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করতেন।
গত ১৫ জুন বাবু আমার (রানা) কাছ থেকে ১৫ ভরি ৪ আনা স্বর্ণালংকার বিক্রির জন্য বাকিতে নিয়ে যায়। এরপর আমার স্বর্ণের মূল্য ১৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা পরিশোধ না করে স্ত্রী জয়শ্রী ঘরামীর সহায়তায় বাবু আত্মগোপনে চলে যান। তারপর থেকে বাবুর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তা বন্ধ পেয়েছি। পরে জানতে পারি পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী সুদেব কর্মকারের কাছ থেকে ১২ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণ নিয়ে টাকা পরিশোধ করেননি বাবু।
এছাড়া আরেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী জসিম হাওলাদারের চার লাখ টাকা পায়নি। এছাড়া দুই স্বর্ণের কারিকর পলাশ কর্মকার ও উজ্জল দেবনাথের মোট পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ না করে উধাও হয়েছেন। বাবু মিত্র আমাদের মোট ৩৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা আত্মসাত করে পালিয়েছেন। তার সন্ধান না পেয়ে টাকা হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। তবে কয়েক দিন আগে ঢাকায় একটি স্বর্ণের দোকানে তাকে অলংকার কিনতে দেখা গেছে বলে জানান ভূক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবু মিত্র ও তার স্ত্রী জয়শ্রী ঘরামীর মোবাইল ফোনে কল দিলে তাদের পাওয়া যায়নি। কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, এই বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।